আজ ২৮ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাজধানী ঢাকার গোলাপবাগ খেলার মাঠে ২০০ জন গৃহকর্মীর উপস্থিতিতে একটি অগ্নি নির্বাপণ প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএসকে পরিচালিত সুনীতি প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভাটি খিলগাঁও হাব আয়োজন করে।
সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল গৃহকর্মীদের অধিকার, সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষা এবং অগ্নি নির্বাপণ প্রস্তুতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
অনুষ্ঠানে অক্সফামের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফারহানা আক্তার, যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. ফারুক আহম্মেদ এবং খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও সিভিল ডিফেন্স এর সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন এবং আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে উম্মে হামী, প্রকল্প সুনীতি প্রকল্প, এবং গৃহকর্মী অধিকার ও অসচেতনতার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, সুনীতি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আফরিন আক্তার গৃহকর্মীদের অধিকার বিষয়ক উপস্থাপনা করেন।
যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. ফারুক আহম্মেদ গৃহকর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “গৃহকর্মীদের অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের মতোই সম্মান ও ন্যায্য অধিকার পাওয়া উচিত। তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহকর্মী জাতীয় ফোরামকে আরও শক্তিশালী এবং সংগঠিত হতে হবে, যাতে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার এবং শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তির জন্য আন্দোলন করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি প্রতিরোধে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত।”
খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও সিভিল ডিফেন্স এর সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, “অগ্নিকাণ্ড একটি মারাত্মক ঘটনা, যা এক নিমিষেই বিশাল ক্ষতি করতে পারে। তবে, সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের দ্রুত বিস্তার মূলত নিরব ঘাতক, অর্থাৎ বিপদজনক গ্যাসের কারণে হয়। এই গ্যাসগুলো আমাদের শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই, আমাদের সবার সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অগ্নিকাণ্ডের প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।”
এছাড়াও সমাবেশে ডিএসকের প্রতিনিধি, গৃহকর্মী আঞ্চলিক ফোরামের সদস্য, স্থানীয় জনগণ, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন গৃহকর্মী আঞ্চলিক ফোরামের সহ-সভাপতি লাকি আক্তার।
সভা শেষে উন্মুক্ত স্থানে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া আয়োজনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।